ছুটিতে ক্যাম্পাসের কী মিস করি?

বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ | 48 বার

ছুটিতে ক্যাম্পাসের কী মিস করি?
কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস যখন ছুটি থাকে, কী সবচেয়ে বেশি মিস করেন? জানতে চেয়ে আমরা লেখা আহ্বান করেছিলাম শিক্ষার্থীদের কাছে। আজ তাঁদের লেখা নিয়েই স্বপ্ন নিয়ের বিশেষ আয়োজন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

আমার পথচলা

লামিয়া হাসান

বুয়েট অনেকের কাছে যেমন স্বপ্নের জায়গা, আমার কাছেও তা–ই। ভর্তিপরীক্ষার দিনই বুয়েটে প্রথম পা রাখা, এর আগে কখনো আসা হয়নি। প্রথম দেখাতেই মনে হয়েছিল, যেমন করেই হোক, এই সুন্দর, ছিমছাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে চান্স পেতেই হবে। অবশেষে চান্স পেলাম। ক্যাম্পাস বন্ধ হলেই মিস করতে থাকি প্রিয় প্রাঙ্গণ, প্রিয় বন্ধুদের।

ক্লাস চলাকালে প্রায়ই বন্ধুরা মিলে একেকজনকে ‘পচানি’ দিই। বেশির ভাগ সময় দেখা যায়, সেই একজনটা আমি! তখন বন্ধুদের এই খেপানোতে মন খারাপ হলেও ছুটিতে এটাই বেশি মিস করি। অদ্ভুত অদ্ভুত সব নামে ডাকা, দলবেঁধে খাওয়াদাওয়া, ঘুরতে যাওয়া, ক্যাম্পাসে দলবেঁধে হেঁড়ে গলায় গান গাওয়া…সবকিছুই মিস করি খুব। বুয়েটে মিস করার মতো অনেক কিছুই আছে—হাফওয়াল, ক্যাফেটেরিয়া, স্থাপত্য অনুষদ, স্টাফ ক্যানটিন, পুরকৌশল ভবন…কিন্তু আমি সবচেয়ে বেশি মিস করি ক্যাম্পাসের সরু, সুনসান রাস্তাটা। রাস্তার দুই ধারে ঘন সবুজ গাছপালা আর পাখির ডাকে সব সময় এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করে। গাছের আড়াল থেকে ঝপ করে নামা সন্ধ্যা দেখে মনের কোণ থেকে সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যায়। হঠাৎ কোনো কারণে মন খারাপ হয়ে গেলে মন ভালো করার সঙ্গী ওই রাস্তাই। বিকেলের মিষ্টি রোদে ক্যাম্পাসের রাস্তায় একাকী হাঁটলে মনের মধ্যে একটা স্বর্গীয় আনন্দ ভর করে। কোলাহলমুখর এই নগরজীবনে রাস্তাটা আমার কাছে খুব আপন, স্বস্তিদায়ক। হলে থাকার সুবাদে যখনই আমার ইচ্ছে হয়, তখনই ছুটে চলে যাই এই রাস্তায়। শান্ত, পরিপাটি পথটা ঘিরে আমার চার বছরের বুয়েটজীবনে অনেক সুন্দর স্মৃতি রচিত হবে, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।

প্রথম বর্ষ, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং

 

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়

আমাদের রাতদুপুরের আড্ডাগুলো

জুবায়ের শাওন

ক্যাম্পাস আমার অন্য এক জীবন, অন্য এক অনুভূতি!

মাঝেমধ্যে ভাবি! খুব ভাবি। পড়াশোনার শেষে যখন এই ক্যাম্পাসটা ছাড়ব, যখন পাশে এই পাগলাটে বন্ধুগুলো থাকবে না, তখন বুকের ভেতর কত হাহাকার খেলে যাবে! কতটা শূন্য লাগবে আমার দুনিয়া আর একা লাগবে নিজেকে! একসময় আর ভাবতে পারি না। বুকের বাঁ পাশটায় ব্যথা করে। কেমন চিনচিনে একটা ব্যথা!

আমাদের ক্যাম্পাসটা ছোট। একেবারেই ছোট। কিন্তু যেন সাজানো-গোছানো এক পরিবারের আঙিনা! সে আঙিনা শত প্রাণের পদচারণে মুখর।

ঈদের ছুটি, পুজো বা গ্রীষ্মের ছুটিতে বাড়ি ফেরা হয় কিছুটা লম্বা সময় হাতে নিয়ে। বাড়ি ফিরলে সবার মতো আমারও ভালো লাগে। কিন্তু সেই ভালো লাগার ভেতরেও কোথাও একটা বিষণ্নতা লুকোনো। রাতগুলো যেন একা, খুব আলসেমিতে কাটে। বিশেষ করে, আমার মতো রাতজাগা পাখির জন্য এই রাতগুলো খুব কঠিন।

ক্যাম্পাসের মানুষগুলো পড়াশোনা নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত থাকে। ক্লাসের শেষে সবার চোখেমুখে কেমন একটা ক্লান্তি, একটা অবসাদ চোখে পড়ে। তারপরও যখন রাত বাড়তে থাকে, নিশ্চুপ ক্যাম্পাসটা কেমন যেন জেগে উঠে। সে এক অদ্ভুত জাগরণ! রাত যখন গভীর, দূর থেকে হঠাৎ ভেসে আসে সম্মিলিত কণ্ঠের গান, কখনোবা একসঙ্গে সবার অদ্ভুত অট্টহাসি! তাতে মিশে থাকে প্রাণের ছোঁয়া।

ছুটি হলে মিস করি এগুলোই। ধরুন, রাতে পড়তে বসেছি। হঠাৎ বন্ধু এসে বলল, ‘কী করবি এত পড়ালেখা করে, আয় গান গাই।’ ব্যস! শুরু হয়ে গেল গান। সে গানে সুর থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। বেসুরো গলাতেই জমে ওঠে আমাদের মধ্যরাতের গানের আসর। কখনোবা গান বাদ দিয়ে আড্ডা। আমাদের আড্ডাগুলো জমে শহীদ মিনারে খোলা আকাশের তারা বা টিভি রুমে মধ্যরাতে ফুটবল খেলা দেখতে দেখতে। কখনো মনে হলো তো ক্যাম্পাসের পাশের চা–দোকানটায় জমল চা-পার্টি! সঙ্গে গিটার থাকলে তো কথাই নেই!

শুধু ছুটিতে কেন, যখন এই প্রাণের ক্যাম্পাসটাতে থাকব না; প্রতিটা মিনিট, প্রতিটা সেকেন্ড মিস করব। বন্ধুরা, মিস করব তোদের, তোদের আড্ডা আর বেসুরো গানের জমজমাট আসরটাকে!

তৃতীয় বর্ষ, মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বন্ধুরাই সব

দিশিকা জামান

প্রাণের বন্ধুদের সঙ্গে লেখক (বাঁ থেকে চতুর্থ)সকালের ক্লাসে ঘুম-ঘুম চোখে যেই মুখগুলো দেখি, যাদের কারণে সকালের ‘ঘুম হরণকারী’ ক্লাসটাও সহনীয় মনে হয়, ক্যাম্পাস বন্ধ হলে সবচেয়ে মিস করি তাদেরই। তাদের সঙ্গেই আড্ডা, ঘোরাঘুরি…ক্লাস শেষেও এই মানুষগুলোকে ছেড়ে আসতে ইচ্ছা হয় না। কখনো আড্ডা বসে টিএসসিতে, কখনো-বা মলচত্বরের ঘাসের ওপর অথবা শহীদুল্লাহ হলের পাশের পুকুরপাড়ে।

এই বন্ধুগুলোর সঙ্গেই ক্লাসের ফাঁকে চলে যত দুষ্টুমি, হাসাহাসি। সে জন্য টিচারের কাছে বকাও খেতে হয় কখনো। তখন বকা দেওয়ার জন্য ক্লাসে দাঁড় করালে সবচেয়ে বেশি হাসে এই বন্ধুরাই। পরীক্ষার আগের রাতে প্রস্তুতি নিয়ে কান্নাকাটির চেয়ে হাসাহাসি করে রাত পার করে দেওয়া, ক্লাসের মধ্যে দীর্ঘ বিরতিতে নীলক্ষেতে মামার দোকান বা লালবাগের রেস্তোরাঁয় দল বেঁধে হুমড়ি খেয়ে পড়া, রিকশায় যত দূর ইচ্ছা চলে যাওয়া অথবা কারও জন্মদিনে লুকিয়ে কেক এনে কাটার মধ্যে যে অসামান্য আনন্দ, সব তো এই বন্ধুদের জন্যই।

প্রিয় ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে গেলে তাই মিস করি বন্ধুদের। ঈদের ছুটিতে সবাই যার যার বাড়ি চলে গেলে, এই মুহূর্তগুলো তখন বারবার মনে পড়ে। সামনাসামনি বসে আড্ডাতে যেই আনন্দ, ভার্চু্যয়াল দুনিয়ায় সেটা অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়।

তৃতীয় বর্ষ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ।সূত্রঃপ্রথম আলো

zahidit

Development by: zahidit.com

Select language »