টানা বৃষ্টিতে নকলায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি

শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭ | ১০:১০ পূর্বাহ্ণ | 105 বার

টানা বৃষ্টিতে নকলায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি

মোঃ মোশারফ হোসেন, নকলা (শেরপুর) : শেরপুরের নকলায় শুক্রবার মধ্যরাত হতে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় আমন আবাদসহ শীত কালীন শাক সবজির ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তথ্য সূত্রে, গত রাত হতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে উপজেলার অন্তত ৫০ হেক্টর জমির আমন ধানের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। ঝড়ো হাওয়ায় পানিতে পড়ে গেছে আরো অন্তত ১০০ হেক্টর জমির ধান। তাছাড়া শীত কালীন শাক সবজির ক্ষেত ৭০ একর এবং বীজ বপণের জন্য তৈরী করা অরো প্রায় ১০০ একর জমি নষ্ট হয়েছে । জন জীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোড শেডিং। তাতে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ, শিক্ষার্থী ও চাকুরিজীবিরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠাতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার আসঙ্কা জনক ভাবে কমেগেছে। শীত কালীন শাক সবজি চাষে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের সিটিজেন চার্টার মতে, ৩২ হাজার ৪৫ টি কৃষি পরিবার উপজেলার ৭৬ হাজার ৯০০ একর আবাদী জমি কৃষির আওতায় আনা হয়েছে। তার মধ্যে এক ফসলী জমি ২ হাজার ৭৫০ একর, দুই ফসলী ২২ হাজার ৬০০ একর ও তিন ফসলী জমি ৯ হাজার ৬৫০ একর এবং নীট ফসলী জমি ৩৬ হাজার ২৫০ একর। তাছাড়া ১ হাজার ৭৫০ একর জমি আজও চাষের আওতায় আনা সম্ভব না হলেও চলতি আমন মৌসুমে ১২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে।

ছোট মোজারের শাক সবজি চাষি কৃষক ফেরদৌস, আরফোজ ও মানিক; বানেশ্বর্দীর হাসমত, সোহাগ, কেনু ও কাজল; কান্দাপাড়ার আজিজুল, গেন্দা মিয়া, ফরিদ, ফরহাদ ও ফারুক; ধুকুড়িয়ার হাশেম, হারুন ও নজরুল; বাছুর আলগার মোক্তার, আজিম ও মোকসেদ মাস্টার; ছালাতুল্লার মজনু, মোতালেব, ফোরকান, তমিজ উদ্দিন, ফয়সাল, আলীনাপাড়ার আনারুল, মিনারুল, ছাইদুল, মোসলেম উদ্দিন, হালিম, আব্দুর রশিদ ও মান্নান; ভূরদী কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যাণ সংস্থার সদস্য কৃষাণি তাহমিনা, কৃষক জব্দুল, রায়হান, ছাইয়েদুল ও মোকলেছুর রহমানসহ অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানায়, অন্য যেকোন আবাদের তুলনায় শীতকালীন শাক সবজি চাষে বেশি লাভ পাওয়া যায়; তাই তারা শীত কালীন শাক সবজি চাষের জন্য জমি তৈরী করছিলেন। হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে সব আশা নষ্ট হতে চলছে।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর বলেন, এই বৃষ্টি কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে কৃষকের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, অসময়ে বৃষ্টি হওয়ায় শীতের প্রভাব পড়েছে; শিশু ও বৃদ্ধদের ঠান্ডা জনিত রোগ বেড়ে যেতে পারে।

zahidit

Development by: zahidit.com

Select language »