বেসরকারি চাকরিজীবীদের রিটার্ন দিতেই হবে

সোমবার, ০২ অক্টোবর ২০১৭ | ২:৪৪ অপরাহ্ণ | 121 বার

গত অর্থবছরে ব্যবসা বা পেশার নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পদে নিয়োজিত বেতনভোগী কর্মীর কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এর ফলে গতবার প্রায় সাত লাখের বেশি এমন বেসরকারি চাকরিজীবী টিআইএন নিয়েছিলেন। এ বছর তাঁদের রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই এবার অনেকেই প্রথমবারের মতো আয়কর বিবরণী জমা দেবেন।

এখনই তাঁদের প্রস্তুতি নিতে হবে। সংগ্রহ করতে হবে ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগের দলিল, যাতায়াত, বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন দলিলাদির অনুলিপি। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে যত আয়-ব্যয় করেছেন, সেই হিসাব আয়কর বিবরণীতে থাকতে হবে। রিটার্ন জমা দিতে হবে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। অন্যদিকে টিআইএন সনদ না নিলে কিংবা রিটার্ন জমা না দিলে আপনার প্রতিষ্ঠান আপনাকে যে বেতন-ভাতা দিয়েছে, তা নিজেদের খরচ হিসেবে দেখাতে পারবেন না।

কীভাবে হিসাব করবেন

বেসরকারি চাকরিজীবীদের তাঁদের বেতন-ভাতা সবই আয়কর বিবরণীতে দেখাতে হবে। এ জন্য প্রতি মাসের শুধু মূল বেতনের টাকা অন্তর্ভুক্ত হবে। সেই হিসাবে, ১২ মাসের মূল বেতন এবং বোনাস যুক্ত করতে হবে। উদাহরণ দিয়ে বলা যেতে পারে, কোনো চাকরিজীবীর মূল বেতন যদি ২০ হাজার টাকা এবং দুটি উৎসব বোনাস পান, তবে ওই ব্যক্তির মূল বেতন, বোনাসসহ আয় দাঁড়াবে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ ছাড়া বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত খরচে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত কর রেয়াত মিলবে। ১২ মাসের মোট মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বা বছরে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়িভাড়া দিলে তাতে কর দিতে হবে না। এর বেশি হলে তা আয় হিসেবে যোগ হবে। একইভাবে বার্ষিক মোট মূল বেতনের ১০ শতাংশ বা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা খরচও করমুক্ত। আর বার্ষিক ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত যাতায়াত খরচেও কর দিতে হবে না। এই হলো নির্ধারণের হিসাব।

এবার দেখা যাক, বেসরকারি চাকরিজীবীরা হিসাব করা মোট করের ওপর কোনো রেয়াত পাবেন কি না। এখানেও কর রেয়াত মিলবে। সে ক্ষেত্রে ওই চাকরিজীবীকে আয়ের একটি অংশ বিনিয়োগ করে কর রেয়াত নিতে হবে। কোনো করদাতার আয় যদি ১০ লাখ টাকা হয়; তিনি তাঁর আয়ের ২৫ শতাংশ বা আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করে কর রেয়াত নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে তিনি বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ বা সাড়ে ৩২ হাজার টাকা কর রেয়াত পাবেন। তবে তিনি যদি আড়াই লাখ টাকার কম বিনিয়োগ করেন, তবে প্রকৃত বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ কর রেয়াত পাবেন। সরকারি নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগ করলেই এই রেয়াত পাওয়া যাবে। ওই খাতগুলোর অন্যতম হলো সঞ্চয়পত্র, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, ট্রেজারি বন্ড ইত্যাদিতে।

করমুক্ত আয়সীমা আগের মতোই আড়াই লাখ টাকা রয়েছে। আড়াই লাখ টাকা বেশি করযোগ্য আয় হলেই আপনাকে কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা কর দিতে হবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন; অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে ন্যূনতম কর যথাক্রমে পাঁচ হাজার, চার হাজার ও তিন হাজার টাকা বহাল রাখা হয়েছে।

zahidit

Development by: zahidit.com

Select language »