Latest news

বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে নারী শিক্ষার বিকল্প নেই…সোনিয়া শারমিন

সোমবার, ০৫ জুন ২০১৭ | ১:৫২ অপরাহ্ণ | 248 বার

বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে নারী শিক্ষার বিকল্প নেই…সোনিয়া শারমিন

উনিশ শতকের গোড়ার দিকেও এদেশের মেয়েরা লেখাপড়ার সুযোগ মোটেও পেত না। অভিজাত পরিবারে ও বৈঞ্চবীদের মধ্যে লেথাপড়ার নিজস্ব ধাঁচের ও সনাতনী ধারার চল ছিল। এই প্রেক্ষপটে ব্যাপকভাবে মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টির জন্য নবযুগের ব্যক্তিদের প্রচেষ্টার ফলে বাংলার নারী জগরণের সূচনা ঘটেছে।

নারী শিক্ষার মূল লক্ষ্য হচ্ছে নারীকে সচেতন ও প্রত্যয়ী করা, সম-অধিকারের অনুকূলে নারীর দৃষ্টিভঙ্গী প্রখর করা, সকল পর্যায়ে দেশ পরিচালনায় অংশ গ্রহণে নারীকে উদ্বৃদ্ধ ও দক্ষ করা, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ও দারিদ্র বিমোচনে নারীর অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা, আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধনে সহায়তা করা, সুন্দর ও স্বচ্ছন্দ্যময় পরিবার গঠনে উত্‌সাহিত করা এবং যৌতুৃক ও নারী নির্যাতন রোধ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে পারেন এমন দৃষ্টিভঙ্গি ও আত্মপ্রত্যয় নারীর মধ্যে সৃষ্টি করা৷

বিভিন্ন গবেষনার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে যে কোন উন্নয়নে বিনিয়োগের তুলনায় নারী শিক্ষায় বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশি ফল পাওয়া যায়। শিক্ষিত মহিলা গৃহ, কর্মক্ষেত্রে, সমাজ ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অধিকতর দক্ষতার সাথে ভূমিকা পালন করতে পারেন। গবেষনায় প্রাপ্ত মহিলাদের শিক্ষার কয়েকটি সুফল সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হল:

  • বিশ্বব্যাংক পরিচালিত বিশ্বের ২০০ টি উন্নয়নশীল দেশে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, মহিলাদের শিক্ষা অর্থনৈতিক উৎপাদন বাড়ায়, প্রজনন হার হ্রাস করে, শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার কমিয়ে এবং গড় আয়ু বৃদ্ধি করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি আনয়ন করে।
  • মেয়েরা শিক্ষিত হলে ছেলেদের শিক্ষার তুলনায় পরিবারের আকার ছোট হওয়ার সম্ভবনা তিনগুন বৃদ্ধি পায়। কারন মেয়েরা শিক্ষিত হলে তাদের দেরিতে বিয়ে হয় এবং পরিবারের বাইরে বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই পরিবার ছোট রাখার প্রবণতা তৈরি হয়।
  • মেয়েরা শিক্ষিত হলে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহনের সুযোগ বাড়ে, যা প্রজনন ক্ষমতা ও শিশুর মৃত্যুহার হ্রাসে সাহায্য করে।
  • শিক্ষিত মহিলাদের সন্তানদের মধ্যে সাক্ষরতার হার বেশি এবং তারা ছেলে ও মেয়ে সন্তানদের শিক্ষাকে সমানভাবে মূল্যায়ন করে।
  • মেয়েরা শিক্ষিত হলে আয় উপার্জনের দক্ষতা বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে মহিলাদের প্রতি এক বছরের অতিরিক্ত বিদ্যালয় শিক্ষা তাদের আয় ১০-১২ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।
  • শিক্ষিত মহিলা সহজে নতুন ধারনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারে সাড়া দেয়। ফলে নিরক্ষরদের তুলনায় তাদের জীবনের গুনগত মানোন্নয়ন বেশি হয়।
  • শিক্ষিত মহিলা জাতীয় উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহনে সমর্থ হয়।
  • শিক্ষিত মহিলারা তাদের মেয়ে সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে অধিক সচেতন হয় এবং শিক্ষিত মহিলাদের মেয়েরা নিরক্ষর মহিলাদের মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি স্কুলে যায়।
  • শিক্ষিত মহিলারা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহনে অধিক সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে।

মহিলারা শিক্ষিত হলে জীবন সম্পর্কে বেশি সচেতন হয় এবং পরিবারে ও সমাজে অধিক শিক্ষিত মহিলারা কম নির্যাতন ও বঞ্চনার স্বীকার হয়।

নারী শিক্ষার বংশ পরম্পরাগত সুবিধা

নারী- পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তার জন্য যথোপযুক্ত শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করা অত্যাবশ্যক। অথচ আল্লাহর দাসীদের জ্ঞানশিক্ষা থেকে বঞ্চিত রেখে যুগ যুগ ধরে অজ্ঞানতার অন্ধকারে রাখা হয়েছে যা এক ধরনের জাতীয় অপরাধ বললে বোধ হয় ভুল হবে না। উপযুক্ত মানুষ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ নারীর ন্যায্য অধিকার, যা ইসলামী পরিভাষায় হক্কল এবাদত- এর পর্যায়ে বিবেচনা করা সমীচীন বলে মনে হয়। সুস্থ মাতৃত্ব, সন্তান পালন, সন্তানের শিক্ষা, পরিবার পরিচালনার জন্য নারীকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতেও শিক্ষার প্রয়োজন অনস্ব^ীকার্য। মুসলিম সমাজেও মহিলা শিক্ষক, অধ্যাপক, চিকিৎসক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, বাস্তুকার, বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক, প্রযুক্তিবিদ ইত্যাদির প্রয়োজনীয়তা কি অস্বীকার করা যায়? সুতরাং যতদূর সম্ভব ইসলামী জীবন বিধান প্রদত্ত সীমারেখা ও অনুশাসন মেনে নারীর জন্য উপযুক্ত শিক্ষা তথা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। ধর্মীয় শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য কোরআন তফসীর, হাদিস, ফেক্বাহ ইত্যাদি শাখায় তাদের জন্য পঠন-পাঠনের বিশেষ ব্যবস্থা করা একান্ত প্রয়োজন। এমন কি সুস্থ মাতৃত্বের জন্য মেয়েদের পৃথক শিক্ষারও প্রয়োজন রয়েছে।

সন্দেহ নেই, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে নারী শিক্ষার হার আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু তারপরও আর্থ-সামাজিক বেশকিছু সমস্যা রয়েগেছে যা নারী শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

নারীর উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আর্থ-সামাজিক বাঁধাগুলো দূর করা প্রয়োজন। সর্বোপরি সমাজে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য এবং নারী-পুরুষের বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার জন্য নারীর উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করার বিকল্প কোন পথ নেই।

লেখক:সোনিয়া শারমিন,শিক্ষক ও কলামিষ্ট,যশোর।

জনপ্রতিনিধি হিসেবে এক অনন্য নজির স্থাপনে এগিয়ে যাচ্ছেন সাংবাদিক আব্দুল বাছিত বাচ্চু

zahidit

Development by: zahidit.com

Select language »