স্কুলে ৩ বছর অনুপস্থিত থেকেও প্রধান শিক্ষকের বেতন উত্তোলন !

বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৭ | ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ | 36 বার

স্কুলে ৩ বছর অনুপস্থিত থেকেও প্রধান শিক্ষকের বেতন উত্তোলন !

ডেস্ক রিপোর্ট:কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের বড় কৈয়নী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক এনায়েত উল্লাহ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বিগত ৩ বছর যাবত নিয়মিয়ত বেতন ভাতা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বিভিন্ন দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, জেলার বরুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের যোগসাজে বড় কৈয়নী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনায়েত উল্লাহ ২০১৫, ১৬ ও ১৭ সালের দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাজেদা বেগম ও স্কুল কমিটির সভাপতি মোঃ নূরুল্লার সহযোগীতায় দৈনিক হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করে বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছে। এ বিষয়ে কার্যত কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের বড় কৈয়নী গ্রামের কৃতি সন্তান মোঃ মোবারক হোসেন ১৯৯৪ সালে এক একর ৭৭ শতাংশ জমির উপর বড় কৈয়নী উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ২০ বছর সুনামের সাথে স্কুলটি পরিচালিত হয়ে আসছিলো। দায়িত্বশীল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়,পাঠদানের ধারাবাহিকতা ধ্বংসের মূখে পড়ে ২০১৫ থেকে। যা চলতি ২০১৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনায়েত উল্লার দায়ীত্বহীনতার কারনে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোঃ এনায়েত উল্লাহ ২৩/০১/২০০১ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়টিতে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর সুনামের সাথে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে পাঠদান করে আসলেও গত ৩ বছরে এর চিত্র ভিন্ন। তিনি গত ৩ বছর যাবৎ মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে আসতেন।

এদিকে গত ৬ মাস যাবৎ তিনি কর্মস্থলে বেশির ভাগ সময় বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের মূল ফটকের ও অফিসের চাবির একটি সেট ওনার কাছে থাকায় বিদ্যালয়ে অন্য শিক্ষকরা উপস্থিত হওয়ার আগেই তিনি খুব সকালে এসে অফিসে প্রবেশ করে অনুপস্থিত থাকা দিনগুলোর হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে দেন। মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম হাজিরা খাতা নিয়ে কুমিল্লায় প্রধান শিক্ষকের বাসায় গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের একাধিক শিক্ষক জানান,তিনি স্কুলে অনুপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় পুরো মাসের স্বাক্ষর কিভাবে দেন সেটা বোধগম্য হচ্ছে না। আর এই অনৈতিক কাজ করে স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থা পিছিয়ে দেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দেখা যায় যে তিনি অনপস্থিতি থেকেও প্রতিদিন থাকে হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর। কে করছে এসব স্বাক্ষর, এসব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল।

এদিকে বিষয়টি জানতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এনায়েত উল্লাহ’র সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি তার অনুপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,আমি নিয়মিত স্কুল করছি বলেই হাজিরা খাতায় আমার স্বাক্ষর আছে। অপরদিকে অফিস সহকারী সিরাজুল ইসলামের কর্মকান্ড নিয়ে কেউ কোন কথা বলতে চাইলে সে মামলা করবে বলে হুমকি দেয়।

প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার কারনে বিদ্যালয়টির কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গত ৩ বছর ধরে। প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির কারনে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেনা মানসম্মত শিক্ষা এবং মানসম্মত শিক্ষার অভাবে দিন দিন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

দাতা সদস্য ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে তার অনুপস্থিতির কারন জানতে চাইলে তারা জানান তিনি ওই এলাকা থেকে বিত্তবান মানুষের কাছ থেকে ব্রিকফিল্ডের ব্যাবসার কথা বলে প্রায় ২/৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। মানুষের টাকা সময়মত ফেরৎ দিতে পারছেন না বলেই এ আতœগোপন করে আছে।

এছাড়া প্রধান শিক্ষক গত ৬/৭ মাস পূর্বে বিদ্যালয়ের মাঠের পুকুরের অংশে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্ধকৃত ৩৬,৫০০/= টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন বলে দাবি করছেন অভিবাবকরা। একাধিক ক্লাশ রুমে গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রধান শিক্ষকের পরিচয় জানতে চাইলে তারা সহকারী প্রধান শিক্ষককে দেখিয়ে দিচ্ছে। বিষয়টি রিতিমত বিভ্রান্তিকর।

এ বিষয়ে এনায়েত উল্লার সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যান তার প্রমান শিক্ষক উপস্থিতির হাজিরা খাতা। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন।

এবিষয়ে বরুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিতির বিষয়টি আমরা পূর্বে অবগত ছিলাম না। কিছুদিন পূর্বে আমি বিষয়টি জানতে পেরে তদন্ত সাপেক্ষে গত ১০/১০/১৭ তারিখ বরুড়া উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আমরা বড় কৈয়নী উচ্চ বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করি। এতে আমরা প্রধান শিক্ষককে অনুপস্থিত দেখি এবং হাজিরা খাতায় অনুপস্থিতি দেখাই। এবিষয়টি তদন্তাধিন রয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এব্যাপারে গত ১০/১০/১৭ তারিখে বড় কৈয়নী উচ্চ বিদ্যালয় ভিজিট করে প্রধান শিক্ষককে অনুপস্থিত পেয়েছেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরুড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল খালেক চৌধুরী।সূত্র:ekattorlive.com

zahidit

Development by: zahidit.com

Select language »