শুক্রবার ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আর কোনো মা নয় বৃদ্ধাশ্রমের দরজায় ।। লুৎফুন্নাহার তালুকদার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০৫ জুন ২০২৪ | প্রিন্ট

আর কোনো মা নয় বৃদ্ধাশ্রমের দরজায় ।। লুৎফুন্নাহার তালুকদার

আজ মা দিবস।
মাত্র এক অক্ষরের শব্দটির মধ্যে যে গভীরতা ও ভালবাসা তা অন্য কোন শব্দের মধ্যে নেই।

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সম্মানীয় মানুষ হচ্ছেন ‘মা’।এবং পবিত্র ও মধুর শব্দটি হচ্ছে ‘মা’।যার কল্যাণে পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখতে হয়।মা ছাড়া জীবন অচল,নিঃসঙ্গ যাত্রায় প্রতিটি মুহূর্ত নির্জন,জীবনে মায়ের বিকল্প কোনো শব্দ নেই।
মায়ের আর্শীবাদেই কঠিন পরিস্থিতিও সহজ হয়।সেই মমতাময়ী মায়ের স্মরণেই প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার ‘বিশ্ব মা দিবস’ পালন করা হয়।


প্রতি বছর ক্যালেন্ডার ধরেই দিবসটি আসে, চলেও যায়।কিন্তু দিনটি কিভাবে এলো? কেন পালন করা হয় এই মা দিবস?এর গুরুত্ব কী তা হয়তো আমাদের অনেকেরই অজানা।
ইতিহাস বলছে ১৯০৭ সালের ১২মে প্রথমবার আমেরিকার ওয়েস্ট ভারজিনিয়ার গ্রাফটন শহরে ‘মাদার্স ডে’ পালিত হয়।
এই দিনটি পালনে রয়েছে এক ইতিহাস। ভার্জিনিয়ায় এন নামে এক শান্তিকামী সমাজকর্মী ছিলেন।তিনি নারী অধিকার নিয়ে কাজ করতেন।তিনিই ‘ মাদার্স ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।ছোট ছোট ওয়ার্ক ক্লাব বানিয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে নিতে চেষ্টা করতেন।নারিদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করতেন।এন ছিলেন খুবই ধর্মপ্রাণ। এনের একটি মেয়্ব ছিল ‘আনা মারিয়া রিভস জার্ভিস’ নামে।একদিন ছোট্ট মেয়ের সামনেই এন হাত জোড় করে বলেছিলেন —– আমি প্রার্থনা করি, একদিন কেউ না কেউ, মায়েরদের জন্য একটা দিন উৎসর্গ করুক।কারণ তারা প্রতিদিন মনুষ্যত্বের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে চলেছেন।এটি তাদের অধিকার মনে করছি।

মায়ের এই প্রার্থনা হৃদয়ে নাড়া দিয়ে যায় আনা মারিয়ার।তাই এনের মৃত্যুর দিনটিকে সারাবিশ্বের প্রতিটি মায়ের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন তিনি।তারপর থেকে মায়েদের প্রতি সম্মানে পালিত হয়ে আসছে মা দিবস।


১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবস উদযাপন এর স্বীকৃতি দেন।এভাবেই মা দিবস পালনের যাত্রা শুরু।

মাত্র এক অক্ষরের শব্দটির ব্যপকতা সাগরের চেয়েও বিশাল। এই শব্দের চেয়ে অতি আপন শব্দ আর নেই।তবে অনেকের মতে,দিনক্ষণ ঠিক করে মাকে ভালবাসা ও শ্রদ্ধা জানানো যায় না।মায়ের জন্য সন্তানের ভালবাসা থাকে প্রতিদিন। তবুও এই দিনটিতে অন্তত প্রত্যেক সন্তান তার মাকে একটু বাড়তি আনন্দ দিতে চেষ্টা করেন।
‘মা’ চিরন্তন এক আশ্রয়ের নাম,যে শব্দে লুকিয়ে আছে স্নেহ,মমতা আর অকৃত্রিম ভালবাসা।


মা দিবসে এটাই সংকল্প হোক —- আর কোনো মা যেন বৃদ্ধাশ্রমের দরজায় না দাঁড়ায়।

‘হেপী মাদার্স ডে’

লেখক: মোছাঃ লুৎফুন্নাহার তালুকদার, শিক্ষক , চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ।

Facebook Comments Box

Posted ৭:১২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৫ জুন ২০২৪

শিক্ষার আলো ডট কম |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১  
অফিস

১১৯/২, চৌগাছা, যশোর-৭৪১০

হেল্প লাইনঃ 01644-037791

E-mail: shiksharalo.news@gmail.com