রবিবার ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গুজব ছড়ানোর দায়টা কে নিবে ?

মোহাম্মদ জাহির মিয়া তালুকদার   |   শুক্রবার, ২৩ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট

গুজব ছড়ানোর দায়টা কে নিবে ?

মোহাম্মদ জাহির মিয়া তালুকদার

করোনা ভাইরাসের প্রদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। গত বছর ৮মার্চ প্রথম করোনার ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সন্ধান পাওয়া যায়। বিশেষ করে যারা প্রবাসে থাকেন তাদের বাংলাদেশে ফিরে আসার প্রেক্ষিতে দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে। তখন খুব বেশী গুরুত্ব বা পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রেক্ষিতে এবং সচেতনতার চেয়ে আতংক তখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার আলোর ফেসবুক পেজে লাইক দিন ও ফলো করুন (ক্লিক করুন)।


এক পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার স্বার্থে ২০২০ সালের ১৮মার্চ সারাদেশে লকডাউন কার্যকর করা হয়। প্রথম দিকে মানুষ সেটা সর্বাত্মাকভাবে মেনে চললেও কিছু দিনের মধ্যে মানুষ কোন কিছুর তুয়াক্কা না করে বাইরে বেরিয়ে আসতে থাকে। এতে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার বাড়তে থাকে ।

শিক্ষার আলোর ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।


করোনার প্রথম ঢেউ এ মৃত্যুর পরিমাণ এক’শ এর আশে পাশে তাকে। তখন কিছু মানুষ ইচ্ছামত যুক্তি খাড়া করে সেটা ধনীর বা শহরের রোগ বলে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। এতে কিছু মানুষ বিভ্রন্ত হয়। আবার কিছু মানুষ ধর্মীয় বিষয়ের মত স্পর্শকাতর বিষয় এর সাথে মিশিয়ে অপপ্রচার করতে থাকে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। সরকার এর প্রচেষ্টা এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতায় এসব বিভ্রান্ত থেকে মানুষ কিছুটা হলেও বের হয়ে আসতে পেরেছে।

শিক্ষার আলোর ফেসবুক পেজে লাইক দিন ও ফলো করুন (ক্লিক করুন)।


টীকা আবিষ্কারের পর বাংলাদেশ যখন জনগণের জীবন বাঁচানোর জন্য বিদেশ থেকে টীকা আমদানী করার চেষ্টা করতে থাকে তখনও কিছু মানুষ টীকা সম্পর্কে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাতে থাকে। মানুষকে টীকা গ্রহণ করা থেকে কিছুটা হলেও সরিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত অগ্রাধিকারভিত্তিতে টীকা প্রদান কার্যক্রম চলতে থাকে। এক সময় বিদেশ থেকে আমদানীকৃত টীকার প্রায় সবটাই প্রদান করা হয়। টীকা প্রদান কার্যক্রম চালানোর প্রেক্ষিতে আস্তে আস্তে অপপ্রচারকারীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন এবং টীকা গ্রহণকারীগণ টীকার সুফল পেতে থাকেন।

শিক্ষার আলোর ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

সরকার সকল ধরনের অপপ্রচারকে উপেক্ষা মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য টীকা প্রদান কার্যক্রম সফলতার সাথেই চালিয়ে যেতে থাকে । কিন্তু টীকা প্রদানের আগমুহূর্ত পর্যন্ত অনেক সম্ভাবনাময় প্রাণ করোনাভাইরাসের করাল থাবায় অকালেই ঝরে গেল। তাদের মৃত্যু সার্বিকভাবে সংখ্যায় পরিণত হলেও মৃতের পরিবারের কাছে সেটা ছিল বিশাল শূন্যতা , অপুরনীয় ক্ষতি, সামনে বিশাল অন্ধকার। টীকা প্রদানের পর কেউ আক্রান্ত হলেও প্রচুর পরিমাণে এন্টিবডি শরীরে তৈরী হওয়ায় মৃত্যুও ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

শিক্ষার আলোর ফেসবুক পেজে লাইক দিন ও ফলো করুন (ক্লিক করুন)।

২০২১ সালে করোনা ভাইরাসের আক্রমণে ভারতের বিপর্যস্ত অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়তে থাকলো। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার বাড়ার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে । মৃত্যুর হার এবং আক্রান্তের হার সকল সময়ের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন নতুন রেকর্ড হতে থাকে। সরকার আবারো কঠোর লক ডাউন দিয়ে মানুষের মৃত্যু ও আক্রান্ত হওয়াকে প্রতিরোধ করা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে সরকার ২৩ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউনের অগ্রীম আদেশ জারী করে, যাতে করে সবাই সেটাকে মাথায় রেখে চলাফেরাকে নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এখানেও অপপ্রচারকারীরা লকডাউন ২৭ জুলাই থেকে শুরু হবে বলে অপপ্রচার চালাতে থাকে বলে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশ প্রায়। যার প্রেক্ষিতে দেশের দক্ষিণ অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ জল পথে ঢাকায় এসে ঢুকতে শুরু করে। আগন্তুকদের ভাষ্যমতে তারা শোনেছেন ২৭ জুলাই থেকে লকডাউন শুরু হবে তাই তারা এর আগেই যার যার গন্তব্যে বা কর্মস্থলে পৌঁছার জন্য যাত্রা শুরু করেন। কথা হচ্ছে এ অপপ্রচার কে চালালো ? এখন হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় ঢুকার প্রেক্ষিতে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা যে হু হু করে বাড়তে থাকবে এর দায় কে নিবে ?

শিক্ষার আলোর ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

অপপ্রচারকারীদের সম্পর্কে সবাই সচেতন থাকা এবং সরকার এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এরকম অপপ্রচার করার সাহস হয়তো ভবিষ্যতে কেউ দেখাবে না। সেই সাথে যারা ঢাকায় ঢুকেছেন তাদের প্রত্যেককে এখনই তাদের যারা যার অবস্থানে আইসোলেশনে/কোরেনটাইনে রাখলে সম্ভাব্য বিপদ কিছুটা হলেও এড়ানো যাবে বলে মনে হচ্ছে। ভাল থাকুক বাংলাদেশ , স¦াভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসুক জনজীবনে।

লেখক: মোহাম্মদ জাহির মিয়া তালুকদার
ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার, বানিয়াচং, হবিগঞ্জ।

শিক্ষার আলোর ফেসবুক পেজে লাইক দিন ও ফলো করুন (ক্লিক করুন)।

শিক্ষার আলোর ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Facebook Comments Box

Posted ৬:৩২ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৩ জুলাই ২০২১

শিক্ষার আলো ডট কম |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
অফিস

১১৯/২, চৌগাছা, যশোর-৭৪১০

হেল্প লাইনঃ 01644-037791

E-mail: shiksharalo.news@gmail.com